২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট, কিন্তু নিজেদের ঘরের মাঠে তারা নামল জয়ের ক্ষুধা নিয়ে। প্রতিপক্ষ ব্রাজিল হলেও তাতে ভ্রূক্ষেপ ছিল না হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের। বুয়েন্স আয়ার্সের এস্টাদিও মাস মনুমেন্টালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তারা তুলে নিল একহালি গোলের জয়।
আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং গুইলিয়ানো সিমিওনে। ব্রাজিলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন ম্যাথিয়াস কুনহা।
ম্যাচের শুরুতেই দারুণ টিমওয়ার্কে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র ৪ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের পাস ধরে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যান নিকোলাস টালিয়াফিকো। তার নিখুঁত ক্রস থিয়েগো আলমাদাকে খুঁজে নেয়, যেখান থেকে ডিফেন্সচেরা এক পাসে গোল আদায় করে নেন হুলিয়ান আলভারেজ।
এর মাত্র আট মিনিট পর, অর্থাৎ ১২ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আলবিসেলেস্তেরা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একক প্রচেষ্টায় ব্রাজিলের রক্ষণে ফাটল ধরে। তার পাস আলভারেজের পা ছুঁয়ে নাহুল মলিনার কাছে পৌঁছায়। ডানপ্রান্ত থেকে মলিনার ক্রসে সহজেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা
৩০ মিনিটের আগেই ব্রাজিল ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। উলভসের ফরোয়ার্ড ম্যাথিয়াস কুনহা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ভুল কাজে লাগিয়ে বল দখল করে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন।
তবে ব্রাজিলের আনন্দ বেশি সময় টেকেনি। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ফেরত আসা বলে এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত চিপে ম্যাক অ্যালিস্টার আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ৩-১ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক, দুর্দান্ত ফিনিশিং
বিরতির পর ৪৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণের ভুলে আলভারেজ একক প্রচেষ্টা চালালেও গোলরক্ষক বেন্তো দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করেন। ৬০ মিনিটে নিকোলাস টালিয়াফিকোর হেড পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৬৮ মিনিটে আলমাদার বদলে মাঠে নামেন গুইলিয়ানো সিমিওনে, আর মাত্র তিন মিনিট পরেই গোলের দেখা পান তিনি। এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে টালিয়াফিকো বল বাড়ান ম্যাক অ্যালিস্টারের উদ্দেশে। তিনি মিস করলেও বল চলে যায় সিমিওনের কাছে। কঠিন কোণ থেকে তার শট রুখতে ব্যর্থ হন বেন্তো, ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।
শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা, কিন্তু জয় আর্জেন্টিনার
৭৭ মিনিটে রাফিনিয়ার ফ্রি-কিক গোলপোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর পারেদেসের দূরপাল্লার শটও ঠেকিয়ে দেন বেন্তো। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি, ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
২০১২ সালে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক করা সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর এবারই প্রথম ব্রাজিলের বিপক্ষে চার গোল করল আলবিসেলেস্তেরা, যা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল।