টাঙ্গাইলে এলাংজানী নদীর ওপর নির্মিত এসডিএস সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে টাঙ্গাইল-তোরাবগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ২৫ গ্রামের লাখো মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে এই ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পশ্চিম টাঙ্গাইলের কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, সদর উপজেলার চলাঞ্চলে হুগড়া, কাকুয়া, কাতুলী, মাহমুদনগর এবং সিরাজগঞ্জের চোহালির একটি অংশ এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে। টাঙ্গাইলের চারাবাড়ি তোরাবগঞ্জ ধলেশ্বরী নদীর ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর ২০০৬ সালে ১৭০ দশমিক ৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে যমুনার শাখা নদী এলাংজানী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়। এতে সেতুর পশ্চিম পাড়ের মাটি ধসে গিয়ে সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়ে। ফলে তোরাবগঞ্জ, চারাবাড়িসহ অন্তত ২০-২৫ গ্রামের মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় আমিনুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর থেকেই তিনবার সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। এই সেতুর নিচ দিয়ে শুকনো মৌসুমে বালু উত্তোলন করা হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে সংযোগ সড়ক বারবার ভেঙে পড়ছে।
অটোরিকশা চালক আব্দুল হাই ও খোরশেদ আলম বলেন, ভোরে যাত্রী নিয়ে এসে দেখলাম ভেঙে গেছে। পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভাঙনের দৃশ্য দেখতেছি। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আমরা গাড়ি চালাতে পারব না।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান বলেন, নদীর পানির চাপ বেড়ে পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্রিজ ভেঙে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।
সদর উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সদর উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজকের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন, ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। কারণ যেহেতু ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো ব্রিজ অথবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা নেই। তাই বিষয়টি আমরা সবার সমন্বয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।










