সিরিয়ার রাজধানী ডামাস্কাসে জোড়ো হয়েছেন হাজার হাজার নাগরিক। উদ্দেশ্য একটাই! বিগত ১৪ বছর স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের এক বছরে পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। দেশটির সাধারণ মানুষর জন্য এই উৎসব অনেকটা ঈদ উদযাপনের মতো।
গত বছরের এই দিনে স্থানীয় সময় ভোরে বাশার আল-আসাদ সিরিয়া ছেড়ে মস্কো পালানোর পর দেশটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
সিরিয়ার অনেক বাসিন্দা প্রাক্তন সরকারের পতনকে—যাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রায়ই ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে—একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখেছেন। কিছু সিরীয় এই পরিবর্তনকে ‘দাসত্ব থেকে মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক প্রবীণ নাগরিক জানান, ‘এমন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, এমন দৃশ্য গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি।’
সরকার পরিবর্তনের প্রথম বছরটি আনন্দ ও অনিশ্চয়তা দুটোই নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আসাদের পতনের পর সিরিয়াকে প্রাথমিকভাবে ইরাক বা লিবিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা জাগিয়েছে।
গত মার্চে, সিরীয় উপকূলে এবং জুলাইয়ে সুওয়াইদায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রাক্তন সরকারের সমর্থক গোষ্ঠীগুলো প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করছে, যা প্রতিশোধমূলক হামলা ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আক্রমণের কারণ হয়েছে।
তবে, পুরো ক্যালকুলেশন পাল্টে যায়, যখন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি ঐতিহাসিক সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মূলত, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে গত বছর দীর্ঘদিনের শাসক বাসার আল-আসাদকে উৎখাত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্বাধীনতার পর ১৯৪৬ সালের পর প্রথমবারের মতো সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের মার্কিন সফর।
ওই সফরে, হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন শারা। এমনকি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শারার আল কায়দা গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততাও বাতিল করে দেন।
তবে, দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের আগেই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের শুক্রবারের (৭ নভেম্বর) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শারাকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে সরানো প্রায় প্রত্যাশিত ছিল। তবুও, মিডিয়ার সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন ঘোষণা সিরিয়াকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নতুনভাবে পরিচয় পায় দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে শারা সিরিয়ার পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করবেন, যা ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবর মাসে, বিশ্ব ব্যাংক সিরিয়ার পুনর্গঠনের খরচ প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে অনুমান করেছে।
প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপের পর সিরীয়দের জীবনযাত্রার মান ধীরে ধীরে উন্নতি করেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘সিরিয়া এখন আর কোনো স্বৈরশাসক বা একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে, জালানি তেল সরবরাহ সন্তোষজনক। ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার মাণ উন্নত হচ্ছে’।
এদিকে, আসাদের পতনের বর্ষপূর্তিতে উমাইয়্যাদ স্কোয়ারে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়েছে ৮ ডিসেম্বরের কয়েক দিন আগে থেকেই। উমাইয়্যাদ স্কোয়ারে গত কয়েকদিন ধরে বিশাল ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ মিনিভ্যান বা স্কুটিতে এসে স্কোয়ারের মোড়ে জড়ো হন। গাড়ির হর্ণ, আতশবাজি এবং উল্লাস-ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।










