বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তারুণ্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে। তিনিই তার নির্মিত সিনেমা ‘চাঁদনী’তে নাঈম-শাবনাজ জুটির অভিষেক ঘটান। ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর ‘চাঁদনী’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। একই তারিখে প্রয়াত সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী পরিচালিত আলমগীর রোজিনা অভিনীত ‘লাল বেনারসী’ সিনেমাটিও মুক্তি পায়।
কিন্তু চলচ্চিত্রের তারুণ্যের জোয়ার হিসেবে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় এই দুই তারকার অভিনয়, সিনেমার গল্প, সিনেমার গান, লোকেশন মূলকথা চলচ্চিত্রের ‘চাঁদনী’ নতুনত্ব এনে দিয়েছিল বিধায় ‘চাঁদনী’ দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সময়ের পরিক্রমায় ‘চাঁদনী’ সিনেমা হয়ে উঠে চলচ্চিত্রের এক মাইলফলক সিনেমা। ‘চাঁদনী’র পরেও জুটিবেঁধে তারা আরও বেশকিছু সিনেমাতে অভিনয় করেন।
সিনেমাতে অভিনয় করতে করতে এক সময় দুজনের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর নাঈম-শাবনাজ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ‘চাদনী’, ‘সোনিয়া’, ‘দিল’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘চোখে চোখে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘লাভ’ সিনেমাগুলোতে জুটিবেঁধে অভিনয় করেন।
এরপর নাঈম ও শাবনাজ জুটিকে আর নতুন কোনো সিনেমায় না দেখা গেলেও চলচ্চিত্রের আদর্শ তারকা দম্পতি হিসেবেও তারা দর্শকের মনে জায়গা করে নেন। সাম্প্রতিক সময়ে শাবনাজ অভিনীত ইফতেখার জাহান পরিচালিত ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার নায়ক বাপ্পারাজের ‘চাচা হেনা কোথায়’ সংলাপের মধ্য দিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনায় আসেন শাবনাজ। সেই সঙ্গে দর্শকের প্রশ্নও ছিল যে, সেই হেনা এখন কোথায় আছেন?
দর্শক জানতে পারে যে, হেনা বাস্তব জীবনে তার স্বামী নায়ক নাঈমের সঙ্গেই আছেন। হেনা ও তার স্বামী অর্থাৎ শাবনাজ ও তার স্বামী নাঈমের গল্প নিয়ে এবার চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর তাদের ঈদের বিশেষ আয়োজন ‘যে কথা হয়নি বলা’র একটি পর্ব সাজিয়েছেন। নাঈম বলেন, ‘যে কথা হয়নি বলা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে খুবই ভালো লেগেছে। মনের অনেক অজানা কথা শেয়ার করেছি। এই পর্বটি প্রচারের অপেক্ষায় আছি আমি।’
শাবনাজ বলেন, ‘বেশ গুছানো একটি আয়োজন ছিল যে কথা হয়নি বলা। আমরা সাধারণত একসঙ্গে টিভি শোতে যাই না। কিন্তু এই আয়োজনটা দারুণ ছিল। আমার বিশ্বাস দর্শকদেরও ভালো লাগবে আমাদের অনেক অজানা কথা জানতে পারবেন এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।’
ঈদ অনুষ্ঠানমালায় চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর-এ প্রচার হবে নাঈম শাবনাজের পর্বটি।
/শাকিল